সহজ টুলস

বেতন নির্ধারণ ২০২৬ (নতুন পে-স্কেল)

জনপ্রিয়

চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ অনুযায়ী ৩০ জুন ২০২৬-এর বেতন থেকে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ, ১ জুলাই ২০২৬-এর বেতনবৃদ্ধি, পর্যায়ক্রমিক প্রাপ্যতা ও বকেয়া

এই টুল সম্পূর্ণ আপনার ব্রাউজারে চলে — কোনো ফাইল বা তথ্য সার্ভারে যায় না।

বেতন নির্ধারণ ২০২৬ কী

চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ (এস. আর. ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬) ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয় এবং তা ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর। এই আদেশে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৫-এর পরিবর্তে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ প্রবর্তিত হয়েছে।

বেতন নির্ধারণ মানে হলো — ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আপনি বর্তমান (২০১৫) স্কেলে যে মূল বেতন পাচ্ছিলেন, সেটি থেকে নতুন স্কেলের অনুরূপ গ্রেডে আপনার মূল বেতন কোন ধাপে বসবে তা ঠিক করা। এই হিসাব করে দেয় আদেশের অনুচ্ছেদ ৫, আর তার পরের ধাপ অনুচ্ছেদ ৯(২)।

অনুচ্ছেদ ৫ — নির্ধারণের নিয়ম

অনুচ্ছেদ ৫(ক): ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন যদি বর্তমান স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ হয়, তবে নতুন স্কেলের অনুরূপ গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপেই বেতন নির্ধারিত হবে।

অনুচ্ছেদ ৫(খ): প্রারম্ভিক ধাপের বেশি হলে, বর্তমান বেতন থেকে বর্তমান স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ বাদ দিয়ে পার্থক্য বের করতে হবে এবং সেই পার্থক্য নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের সাথে যোগ করতে হবে। যোগফলের সমান ধাপ নতুন স্কেলে থাকলে ঐ ধাপেই নির্ধারণ হবে [৫(খ)(অ)]; সমান ধাপ না থাকলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে [৫(খ)(আ)]।

অনুচ্ছেদ ৫(গ): যেসব পদের বেতন নির্ধারিত (fixed) অঙ্ক — যেমন ১ম গ্রেড, মন্ত্রিপরিষদ সচিব বা সিনিয়র সচিব — সেখানে ধাপভিত্তিক এই হিসাব প্রযোজ্য নয়।

অনুচ্ছেদ ৯(২) — ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের বেতনবৃদ্ধি

ক্রমটি মনে রাখা জরুরি: আগে অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী বেতন নির্ধারিত হবে, তারপর ঐ নির্ধারিত ধাপের উপর ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ১টি বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি যোগ হবে — অর্থাৎ নতুন স্কেলে আরও এক ধাপ উপরে। নির্ধারিত ধাপটি যদি স্কেলের সর্বোচ্চ ধাপ হয়, তবে বেতনবৃদ্ধির সুযোগ থাকে না।

একটি উদাহরণ — ১১তম গ্রেড

ধরা যাক ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে ১১তম গ্রেডে আপনার মূল বেতন ১৩,৭৯০ টাকা। ২০১৫ স্কেলে ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপ ১২,৫০০ টাকা, তাই পার্থক্য ১৩,৭৯০ − ১২,৫০০ = ১,২৯০ টাকা।

২০২৬ স্কেলে ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপ ২৫,০০০ টাকা। ২৫,০০০ + ১,২৯০ = ২৬,২৯০ টাকা। এই অঙ্কের সমান কোনো ধাপ ঐ স্কেলে নেই, তাই পরবর্তী উচ্চতর ধাপ ২৬,৩০০ টাকায় বেতন নির্ধারিত হবে [অনুচ্ছেদ ৫(খ)(আ)]।

এরপর ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ১টি বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি: ২৬,৩০০ → ২৭,৬০০ টাকা [অনুচ্ছেদ ৯(২)]। সুতরাং বেতনবৃদ্ধি বাবদ মোট অঙ্ক ২৭,৬০০ − ১৩,৭৯০ = ১৩,৮১০ টাকা।

পর্যায়ক্রমিক প্রাপ্যতা — অনুচ্ছেদ ১(৩)(ক)–(গ)

বর্ধিত বেতনের পুরোটা প্রথম দিনেই হাতে আসে না। পর্যায়ক্রমিক শতাংশ প্রযোজ্য হয় শুধু বেতন নির্ধারণজনিত বৃদ্ধির উপর — অর্থাৎ নতুন ধাপ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন বাদ দিলে যা থাকে তার উপর; আর বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিটি প্রতিটি পর্যায়েই পুরোপুরি যোগ হয় [অনুচ্ছেদ ১(৩)(ক)–(গ), ৯(২)]। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ে বৃদ্ধির ৫০%, জানুয়ারি–জুন ২০২৭ সময়ে ৭৫% এবং ১ জুলাই ২০২৭ থেকে শতভাগ। ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের ক্ষেত্রে এই হার যথাক্রমে ৪০%, ৭০% ও শতভাগ।

উপরের উদাহরণে (১১তম গ্রেড) বেতন নির্ধারণজনিত বৃদ্ধি ২৬,৩০০ − ১৩,৭৯০ = ১২,৫১০ টাকা এবং বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি ১,৩০০ টাকা। মাসিক মূল বেতন দাঁড়ায় — জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬: ১৩,৭৯০ + ৬,২৫৫ + ১,৩০০ = ২১,৩৪৫ টাকা; জানুয়ারি–জুন ২০২৭: ১৩,৭৯০ + ৯,৩৮৩ + ১,৩০০ = ২৪,৪৭৩ টাকা; ১ জুলাই ২০২৭ থেকে: ২৭,৬০০ টাকা।

বকেয়া — অনুচ্ছেদ ১(৩)(ঘ) ও (ট)

আদেশটি কার্যকর ১ জুলাই ২০২৬ থেকে হলেও গেজেট জারি হয়েছে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে। মাঝের মাসগুলোর বেতন-ভাতা পুরনো (২০১৫) স্কেলেই তোলা হয়েছে, তাই নতুন নির্ধারণে প্রাপ্য অঙ্ক ও ইতোমধ্যে পরিশোধিত অঙ্কের পার্থক্যই বকেয়া হিসেবে প্রাপ্য।

এই হিসাবে দুটি সমন্বয় ধরতে হয়। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত [অনুচ্ছেদ ১(৩)(ট)], তাই ঐ সময়ে আহরিত বিশেষ সুবিধা বকেয়া থেকে বাদ যাবে। আর বাড়ি ভাড়া ভাতা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের অঙ্কেই স্থির [অনুচ্ছেদ ১৫(১)], তাই জুলাইয়ের বেতনবৃদ্ধির পর বর্ধিত মূল বেতনে যে অতিরিক্ত ভাতা তোলা হয়েছে তাও সমন্বয় হবে।

ভাতা, ব্যতিক্রম ও চূড়ান্ত নির্ধারণ

উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতাসহ অন্যান্য সকল ভাতা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্য অঙ্কেই বহাল থাকবে; ভাতার নতুন হার কার্যকর হবে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে [অনুচ্ছেদ ১(৩)(ঞ), ১২]।

১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ছুটি, সাময়িক বরখাস্ত, প্রেষণ, পদোন্নতি বা অবসর-উত্তর ছুটিতে থাকলে অনুচ্ছেদ ৫(ঘ)–(ঝ)-এর বিশেষ বিধান প্রযোজ্য হয়; উপরের হিসাব সাধারণ ক্ষেত্র ধরে করা।

সবশেষে, চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণ হয় iBAS++ (www.ibas.finance.gov.bd) এর Pay Fixation অপশনে অনলাইনে, হিসাবরক্ষণ অফিসের প্রতিপাদন সাপেক্ষে [অনুচ্ছেদ ৩২]। এই পাতার হিসাব আগেভাগে ধারণা নেওয়ার জন্য — চূড়ান্ত অঙ্ক iBAS++ এর।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

বেতন নির্ধারণ ২০২৬ কীভাবে করব?
চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণ করতে হয় iBAS++ (www.ibas.finance.gov.bd) এর Pay Fixation অপশনে অনলাইনে, এবং তা হিসাবরক্ষণ অফিসের প্রতিপাদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত হয় [অনুচ্ছেদ ৩২]। তার আগে এই পাতার ক্যালকুলেটরে গ্রেড ও ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন দিয়ে আনুমানিক অঙ্ক, পর্যায়ক্রমিক প্রাপ্যতা ও বকেয়া দেখে নিতে পারেন।
৩০ জুন ২০২৬ তারিখের কোন বেতনটি হিসাবে দিতে হবে?
বর্তমান (২০১৫) বেতনস্কেলে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আপনি যে মূল বেতন পাচ্ছিলেন সেটি — অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি যোগ করার আগের অঙ্ক। ভাতা এর মধ্যে ধরা হয় না, শুধু মূল বেতন।
১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি পাব কি?
হ্যাঁ। অনুচ্ছেদ ৯(২) অনুযায়ী আগে অনুচ্ছেদ ৫ মোতাবেক নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারিত হয়, তারপর ঐ ধাপের উপর ১টি বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি যোগ হয়। তবে নির্ধারিত ধাপটি স্কেলের সর্বোচ্চ ধাপ হলে বেতনবৃদ্ধির সুযোগ থাকে না।
বর্ধিত বেতনের পুরোটা কবে থেকে পাব?
১ জুলাই ২০২৭ তারিখ থেকে শতভাগ। তার আগে ১০ম–২০তম গ্রেডে জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ে বেতন নির্ধারণজনিত বৃদ্ধির ৫০% ও জানুয়ারি–জুন ২০২৭ সময়ে ৭৫% প্রদেয়; ১ম–৯ম গ্রেডে ঐ দুই পর্যায়ে ৪০% ও ৭০% [অনুচ্ছেদ ১(৩)(ক)–(গ)]। বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি অবশ্য প্রতিটি পর্যায়েই পুরোপুরি যোগ হয় [অনুচ্ছেদ ৯(২)]।
বকেয়া কীভাবে হিসাব হয়?
আদেশ কার্যকর ১ জুলাই ২০২৬ থেকে, কিন্তু গেজেট জারি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে — মাঝের মাসগুলোর বেতন পুরনো স্কেলেই তোলা হয়েছে। নতুন নির্ধারণে প্রাপ্য অঙ্ক থেকে ইতোমধ্যে আহরিত অঙ্ক বাদ দিলে যা থাকে তাই বকেয়া, এবং ঐ সময়ে আহরিত বিশেষ সুবিধা ও বর্ধিত মূল বেতনে তোলা অতিরিক্ত বাড়ি ভাড়া ভাতা তা থেকে সমন্বয় হয় [অনুচ্ছেদ ১(৩)(ঘ), (ট), ১৫(১)]।
বিশেষ সুবিধা কি বহাল থাকবে?
না, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত [অনুচ্ছেদ ১(৩)(ট)]। তবে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে যিনি অবসর-উত্তর ছুটিতে ছিলেন, তাঁর ক্ষেত্রে ছুটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের হারে তা বহাল থাকে [অনুচ্ছেদ ১(৩)(ঠ)]।
নতুন হারে ভাতা কবে থেকে পাওয়া যাবে?
১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতাসহ সব ভাতা ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্য অঙ্কেই বহাল থাকবে [অনুচ্ছেদ ১(৩)(ঞ), ১২]।

উৎস: বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, পৃষ্ঠা ২৫১৯৩–২৫২১১। অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়।

সম্পর্কিত টুল